June 5, 2026, 5:34 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা ও চালকের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র্যাম্প ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার সময় বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। ফেরিঘাট সূত্রে জানা যায়, যাত্রীদের আগেই ঘাট এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে বাসটিতে শুধু চালক ও তার সহকারী অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক বারেক শেখ জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার জন্য অবস্থান নেয়। ঘাটের এক পকেটে বড় ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ এবং অপর পকেটে একটি মাঝারি ফেরি অবস্থান করছিল। বড় ফেরিতে যানবাহন ওঠার কারণে বাসটি অন্য ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করে। এ সময় চালকের অসতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণহীন গতির কারণে বাসটি হঠাৎ পাশের র্যামে আঘাত করে এবং র্যাম ভেঙে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
একজন যাত্রী কুষ্টিয়ার মুরগী বিক্রেতা হারুনুর রশীদ হারু ওরফে আসকারী জানান, দুর্ঘটনার আগে সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর চালক ও তার সহকারী বাসটি ফেরিতে তোলার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাসটি ডান দিকে হেলে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ ও র্যাব অংশ নেয়।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বাসটি উদ্ধারে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে কাজ করে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চালক ও হেলপারকে প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ যাত্রীর খবর পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহন ওঠানামায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকের অসতর্কতা ও ঘাট ব্যবস্থাপনার ত্রুটিও এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২৫ মার্চ একই দৌলতদিয়া ঘাটে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারান। সেই ঘটনার পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হয়নি—ফলে নতুন করে এ দুর্ঘটনা ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছে ঘাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে।